শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৩৮ অপরাহ্ন

চিলমারী তে বাড়ীতে ঢুকে, সশস্ত্র হামলা; আহতদের কাফনের কাপড় পরিয়ে লাশ গুমের হুমকি।

Admin
  • আপডেট সময় : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ১৬৪ বার পঠিত

চিলমারীতে কাফনের কাপড় সহ প্রতিপক্ষ কে হত্যার উদ্দেশ্যে রাতে বাড়ীতে হামলায় গুরুতর আহত এক।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ

কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরের হাট বাজার সংলগ্ন চিকেরটারী মজারটারী গ্রামে জনৈক ফারুক মিয়ার বসতভিটায় নৃশংস এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

 

স্থানীয় সূত্রে ও বাদীর লিখিত এজাহারে জানা যায় গত ( ২০ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে সাত ঘটিকার সময় প্রতিপক্ষ বকিয়ত উল্লাহ ও তার পুত্র, ভাই, ভাতিজা সহ ৪০/৫০ জনের একটি সংঘবদ্ধ গ্রুপ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রাণীগঞ্জ বাজার সংলগ্ন ফারুক মিয়ার বাড়ীতে প্রবেশ করে অতর্কিতভাবে হামলা করে ঘর বাড়ীর ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে এবং তাদের হাতে থাকা একটি কাফনের সাদাকাপড় দেখিয়ে হত্যা করে লাশ দাফন কাফন করে পার্শবর্তী ব্রহ্মপুত্র নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার হুমকি প্রদান করে। এসময় ফারুক মিয়ার নাবালগ ১৭ বছর বয়সী পুত্র আলআমিন কে খুঁজতে থাকে ফলে আমিনের মা ঘড় থেকে বেড়িয়ে কারন জিজ্ঞাসা করলে তাকে মারধর করে শ্লীলতাহানি করে। বউ মনোয়ারা বেগম কে উদ্ধার করতে ফারক এগিয়ে এসে প্রতিবাদ করলে অস্ত্রধারীদের একজন তার হাতে থাকা বড় ছোরা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথার মাঝ বরাবর সজোরে আঘাত করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। অন্যান্য দুষ্কৃতিকারীরা রড, লাঠি দারা মারাত্মক জখম ফুলা করে। স্বন্ধার এই সময়টি বাজার ঘাট করার উদ্দেশ্যে বাড়ীতে পুরুষ সদস্যরা কেউ ছিলেন না। হৈচৈ ও আহতদের চিৎকারে বাজার ও আশেপাশের স্থানীয় লোকজন ছুটে আসলে তারা বিভিন্ন হুমকি ধমকি দিয়ে বাড়ীর বাহিরে বের হতে হতে আবারও হুমকি ও গালাগালি করে চিলমারী হাসপাতাল ও থানায় যেতে নিষেধ করে। অভিযোগ আসে হামলার সময় স্থানীয় থানা পুলিশ কে ফোন করে ঘটনাস্থলে আসতে বিলম্বিত হলে আহত ফারুকের লোকজন ৯৯৯ এও কল করে। হামলাকারীরা পুলিশ আসার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় চিলমারী থানার এসআই রানিগঞ্জ ইউনিয়নের বিট অফিসার আঃ কাইয়ুম সঙ্গীয় আর এক পুলিশ অফিসার সহ ভিক্টিমের বাড়ীতে আসে এবং স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে হামলাকারীদের দুইজন কে কাফনের সাদাকাপড় সহ সন্দেহমুলক আটক করে। স্থানীয় সূত্রে ও বাদীপক্ষের অভিযোগ থেকে জানা যায়, ঐ এলাকার প্রভাবশালী মেম্বার বাচ্চু মিয়ার প্রত্যক্ষ মদদে এ হামলার ঘটনা ঘটে এবং তারই হস্তক্ষেপে আটক ২ জনকে পুলিশ ছেরে দেয়। এতে করে প্রতিপক্ষের হুমকি ধমকি তে নিরাপত্তা হীনতায় ভূগে এলাকাবাসীর পরামর্শে আহত ফারুক মিয়া সহ অন্যান্যদের মুমুর্ষ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য উলিপুর সরকারি স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। আশংকাজনক ফারুক মিয়ার মাথায় কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত অস্ত্রোপচার করে ১৬ টি সেলাই পরে। বাকীরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও তারা বাচ্চু মেম্বার ও তাদের লোকজনের হুমকিতে বাড়ী ফিরতে না পেরে উলিপুর হাসপাতালেই অবস্থান করে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ঘটনার ৪/৫ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি কোন ব্যাবস্থা গ্রহনের কার্যত কোন পদক্ষেপ চোখে না পরায় ভূক্তভুগিরা হতাশায় দিশেহারা হয়ে পরেছে। বাদীর টাইপকৃত এজাহার বৃহস্পতিবার চিলমারী থানার ডিউটি অফিসার রতন কুমার সাহার হাতে জমা পরার পরদিন বৃহস্পতিবার রাতে খোজ নিয়ে জানা যায়, স্পর্শকাতর ঘটনা হওয়ার পরও বাদীর এন আইডি কার্ডের ছায়ালিপি ও আহত ফারুক মিয়ার আঘাতের চিহৃিত ছবি এবং চিলমারী হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে উলিপুর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিভিন্ন সমস্যার কথা বলে তা অফিসিয়ালি গ্রহন করা হয় নি। ফলে শুক্রবার পর্যন্ত তা অফিসার ইনচার্জ বরাবর দাখিল না হওয়ায় রেজিঃ ভূক্ত হয়নি এবং ঘটনাস্থলে পুলিশি তৎপরতা সহ তদন্ত কার্যক্রমও শুরু না করার কথা জানা গেছে। গোপন সূত্রে জানা যায়, বাচ্চু মিয়ার নাম এজাহারে না আসা এবং মামলা কে বিলম্বিত করে বাদীকে হতাশায় ফেলে গ্রাম্য শালিসি করার অপতৎপরতা চালাচ্ছে। এছারাও অসহায় হামলার শিকার পরিবারটিকে ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে ঘটনার দিনেই ফারুক মিয়াদের নামে আগাম একটি অভিযোগ থানায় জমা করেছে। ঐ এলাকার সাধারন মানুষদের অভিযোগ, এই এলাকার অবৈধ বালু উত্তোলন, বালু মহাল সহ এলাকার বিভিন্ন বিষয়ে সমাধান না টেনে জটিলতা বাড়িয়ে বিভিন্ন ভাবে কোন এক পক্ষকে সমর্থন ও লিড দিয়ে অন্যপক্ষ কে নিষ্পেষিত করে নিজের ও নিজেদের লোকদের প্রভাব বিস্তার করাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক লোকজনের ও ভূক্তভুগিদের দাবী এ হামলার ঘটনায় বাচ্চু মেম্বার কে এজাহার ভুক্ত করে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তার সংশ্লিষ্টতা বের করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা উচিত।

 

রাণিগন্জ ফকিরের হাটে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে চিলমারী মডেল থানা কুড়িগ্রাম এর অফিসার ইনচার্জ আতিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্মীকার করে বলেন, বাদীর এজাহার ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের ভূল এবং হাসপাতালের অবস্থান সম্পকে নিশ্চিতে কিছুটা বিলম্ব হলেও তদন্ত কার্যক্রম চলছে। আজকের মধ্যেই মামলার কার্যক্রম ও ঘটনায় অভিযুক্ত দের আটকে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহনে দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.


এ্রই রকম আরো সংবাদ