শনিবার, ২৪ Jul ২০২১, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
রৌমারীতে এরশাদ হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার দাবিতে বিক্ষোভ করোনা সংকটে নড়াইলে বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী লোকমান হোসেন ফাউন্ডেশনের অক্সিজেন সিলিন্ডার সেবা শুরু ৩০ মিনিটেই হ্যাটট্রিক ব্রাজিলের রিচার্লিসনের, হারে শুরু আর্জেন্টিনার করোনার তৃতীয় ঢেউ মোকাবেলায় ডোনেট ফর ভূরুঙ্গামারীর জরুরী প্রস্ততিমূলক সভা সরিষাবাড়ী যমুনা সার কারখানার পরিবেশ দূষণ থেকে বাঁচতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন সাংবাদিক মিলনের মহানুভবতায় বাচলো ৬টি পাখির ছানার প্রাণ। রোগীদের সেবা দিয়ে ঈদ আনন্দ উপভোগ করছেন মনিরামপুর স্বেচ্ছাসেবীরা হরিপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে আপন দুই বোনের মৃত্যু রৌমারীতে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুনি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ৫শ দুস্থ্য পরিবার পেল ঈদ উপহার

তরুনদের উদ্যোগ কি থেমে যাবে

a2zbarta com
a2zbarta com
  • আপডেট সময় : ১৩ জুলাই, ২০২১
  • ৫ বার পঠিত

তরুনদের উদ্যোগ কি থেমে যাবে
আতাউর রহমান বিপ্লব, কুড়িগ্রাম।।
ধরলা সেতুর দুপাড়ই  কুড়িগ্রাম বাসীর এক মাত্র বিনোদন কেন্দ্র। বিনোদন পিপাসুদের  জম্পেশ আড্ডার ফাঁকে গরম গরম নানান মুখরোচক খাবার সব বয়সী মানুষের মনকাড়ে।। ছোট্ট ছোট্ট খুঁড়ে ঘরে মিটিমিটি আলোর জ্বলকানী , ধরলা নদীর সো সো শব্দ, সেতুর লাইটগুলোর লাল,নীল আলো যেকারো মন কে পুলকিত করে।।  এই ধরলাকে ঘিরেই কুড়িগ্রামের মানুষের আনন্দ, বিনোদন।।
বিনোদন প্রেমিদের আকৃষ্ট করতে  একদল তারুণ্য  জোট বদ্ধ হয়ে একটি নান্দনিক  রেস্টুরেন্টে দেয়ার স্বীদ্ধান্ত নেয়।। ৯ বন্ধু সাধ্যমতো টাকা নিয়ে শুরু
করেন  ধরলা নদীর পাড়ে পরিত্যক্ত, ডোবা নালার  জায়গায় বাঁশের কারুকাজ করা ছোট রেষ্টুরেন্ট।  বাশ দিয়ে  তৈরী তাই রেষ্টুরেন্ট এর নাম দেয়া হয়  খড়কুটো ।।  তারুণ্যের স্বপ্নের   আলপোনা দিয়ে সাজানো হয় নান্দনিক রেস্টুরেন্টে খড়কুটো।।  উদ্বোধনের প্রস্তুতি শেষ।  একঝাঁক তারুণ্যের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাহেন্দ্রক্ষণে বাধ সেজেছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। কাজ প্রায় শেষের দিকে সেটি ভেঙ্গে ফেলার জন্য সড়ক ও জনপদ বিভাগ মরিয়া হয়ে উঠে।  অথচ নির্মিত রেস্টুরেন্টে টি সড়ক থেকে প্রায় দেড় শত ফুট দুরে। একটি খালের উপর। যেখানে রাত দিন মাদক সেবীদের আড্ডা বসে।  হতাশায় নিমজ্জিত তারুণ্যের বিলাপ করে  বলছে সড়কের
 পাশে বিট পুলিশের একটি পাকা ঘড় নিমার্ন হচ্ছে। সেখানে কোন বাঁধা দেয়া হচ্ছে না।
 স্থানীয়রা জানায় সন্ধ্যার পর ধরলা সেতুর অনেক বাতি জ্বলে না। ভূতরে অবস্থা বিরাজ করছে। সেদিকে তাদের খেয়াল নেই। কিন্তু
তরুনদের সরাতে তারা মরিয়া।
উদ্যোগ নেয়া তরুনরা জানায়, করোনা কালে আমরা কয়েকজন বন্ধু ভাবতে থাকি কিছু একটা করতে হবে। সেতুর সন্নিকটের পরিত্যক্ত নালায় উপর আমরা আলোকিত করবো।  কিন্তু আমাদের সবার পরিবারিক অবস্থা তেমন ভাল না। চাকুরি নাই। তবুও যেভাবেই হোক আমরা  রেস্টুরেন্টে গড়ে তুলবো।।
প্রতিদিন সবাই ধরলা নদীর পুর্ব পাড়ে গ্রোইংয়ে বসে পরার্মশ করি। কি করা যায়।   গত জুন মাসে বিকেলে হঠাৎ একজন বলে বসেন ধরলার পাড়ে প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী ও ভ্রমন পিপাসু মানুষ আসে। তাদের বসার বা খাবার ভাল জায়গা নেই। এখানে তোমরা যে উদ্যোগ নিয়েছো  বাস্তবে  একটি রেষ্টুরেন্ট দিলে অনেক ভালো চলবে। কথাটি সবার পছন্দ হয়  এবং সকলেই সহমত পোষণ করেন।
আহমেদ মোস্তাইন ও রাব্বী ইসলাম নামে দুই তরুন উদ্যোগতা জানায় আমরা যেখানে বসে গল্প করি তার সামনে ধরলা নদী, মাঝে গ্রোইংইন ( নদীর তীর রক্ষা বাঁধ) পিছনে একটি পরিত্যাক্ত জায়গা। দীর্ঘ দিন থেকে পড়ে আছে। ডোবা বা খালের মত। শুকনো মৌসুমে আগাছায় ভড়ে যায়। বষার্য় পানি থাকে। পোকা মাকড়ের ভয়ে অনেকে গ্রোইংনে বসতে চায় না। সবাই সিদ্ধান্ত নেয় আগাছা পরিস্কার করে খুব কম টাকায় বাঁশ দিয়ে রেষ্টুরেন্ট বানাব। পাকা বা কংক্রিটের কিছু হবে না। রেষ্টুরেন্টের নাম ঠিক হয় খড়কুট।
ঘড়টি বাঁশের খুটি দিয়ে মাটি থেকে উঁচু করা হবে। পাটাতন কাঠের। চারপাশ বাঁশ এবং কাবাড়ি দিয়ে ঘেড়া থাকবে। উপরে টিনের দোচালা। খুব কম টাকায় বাঁশের রেষ্টুরেন্ট। রান্না, গ্রাহক সেবা নিজেরাই করবো। এতে খরচ বেঁচে যাবে।
আমরা মোট ৯জন বন্ধু। এর মধ্যে অধিকাংশই নিন্ম মধ্যবিত্ত ঘড়ের সন্তান। সবাই সমান টাকা দিতে পারেনি। বন্ধু বিধায় সবার সহযোগীতায় গত জুন মাসের প্রথমে কাজ শুরু করি। জুনের শেষে ঘড়ের নান্দনিক সৌন্দয্য প্রকাশ পেতে থাকে। আর শহর ও দুর’দুরান্ত থেকে মানুষ এসে দেখে প্রশংসা করেন। এতে উৎসাহ বাড়ে। আরও ভাল করার জন্য চেষ্টা করতে থাকি। উদ্দেশ্য নতুন কিছু করা।
উদ্যোগ নেয়া  রাকিবুল হাসান ও মঞ্জুরুল ইসলাম জানায় এ জায়গাটি সন্ধ্যার পর অন্ধকার থাকে। মাদক সেবীরা বসে নেশা করে। আলোকিত করার জন্য আমরা সামনে বাতি লাগানোর ব্যবস্থা করা  হয়। জুলাই মাসে ঘড়ের কাজ প্রায় শেষ। হঠাৎ সড়ক জনপদের লোকজন উপস্থিত হয়ে বলেন এটি আমাদের জায়গা ঘড় তুলেছেন কেন। চার দিনের মধ্যে ভেঙ্গে ফেলতে হবে। আমাদের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। স্বপ্ন ধুলিশ্বাত হয়ে যায়। চোখে শরষে ফুল দেখতে থাকি। মুখ দিয়ে কথা বের হয় না। েেকোন উত্তর নেই,শুধু এলোমেলো ভাবনা।
তবুও বোঝাতে চেষ্টা করি আমরা বেকার। অল্প বয়স। করোনা সময় কিছু একটা করার চিন্তা থেকে এটি শুরু করি। ছোট বেলা থেকে দেখছি পড়ে আছে। সে কারনে একটা স্বপ্ন নিয়ে শুরু করি। আমরা অঙ্গিকার বদ্ধ সরকারের যে কোন প্রয়োজনে সরে যাব। লিখিত দেব। তবুও তারা মানে না। ভেঙ্গে দেয়ার শেষ সিমা বেঁধে দিয়েছে ১৪ জুন। মাইকিং করেন। ভেঙ্গে না দেয়ার জন্য তাদের অনুরোধ করি কিছুতেই মানছে না।
এ ব্যাপারে  প্রাক্তন শিক্ষক, প্রবীন নাগরিক সামিউল হক, মো. শাহাবুদ্দিন আহাম্মেদ ও কলেজ শিক্ষক রুকুনদ্দৌলা কল্লোলসহ একাধিক মানুষ তরুনদের এ ব্যতিক্রমি কাজ ও উদ্যোগ দেখে বলেন এটি অসাধারন পরিকল্পনা। প্রশাসনের উচিত বাচ্চাদের পাশে দাঁড়ান। তা না করে ভেঙ্গে দেয়ার কথা বলা ঠিক না। আমরা দেখছি ঐ সড়কের পাশে বিট পুলিশের পাকা ঘড় উঠছে, বিজিবিৎর চেক পোষ্ট সড়ক বিভাগ ও প্রশাসন সেটি না দেখে তরুনের স্বপ্ন ভাঙ্গন নেমেছে। এটা ঠিক না।
কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম জানায় এখান থেকে সরে যেতে হবে। আমি নীতি মালার বাইরে যেতে পারবো না। সড়কের সাথেই বিট পুলিশের পাকা ঘড় হচ্ছে এর উত্তরে জানায় তাদের বলেছি প্রয়োজনে সরে যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এ্রই রকম আরো সংবাদ