শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
জাতির পিতার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নড়াইলে প্রবাসী ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে চৌহালীতে ব্লক গ্রান্ট কো-অর্ডিনেশন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রৌমারীতে বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের বিক্ষোভ সমাবেশ রৌমারীতে বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের বিক্ষোভ মিছিল ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করলেন জেলা প্রশাসন সুন্দরগঞ্জে ছাত্রলীগ/যুবলীগের বাঁধারমুখে জাতীয় পার্টির বিক্ষোভ সমাবেশ পন্ড অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উলিপুরে সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার না করায় ব্যবসায়ীদের স্বতঃস্ফূর্ত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা মাদারগজ ব্র্যাকের উদ্যোগে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

রৌমারী শিক্ষা অফিস,এখন লুটপাটের স্বর্গরাজ্য

Admin
  • আপডেট সময় : ১৬ নভেম্বর, ২০২১
  • ২৭০ বার পঠিত

রৌমারী শিক্ষা অফিস এখন লুটপাটের স্বর্গরাজ্য

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

স্লিপ বা সরকারী প্রকল্পের ভ্যাট সাড়ে ৭ ভাগ হলেও দিতে হবে ১২ ভাগ। শিক্ষা কর্মকর্তার ইচ্ছে হলে ক্ষুদ্র মেরামত বা প্রকল্পের টাকা দেবেন না হলে নয়। জাতীয় দিবস বা শোক দিবসের ব্যানার অফিস থেকেই নিতে হবে। ডিজিটাল হাজিরা মেশিনের দাম যতই হোক ৩০ হাজার টাকায় তা অফিস থেকেই নিতে হবে। অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রের জন্য দিতে হবে ১০ হাজার। জাতীয়করণকৃত স্কুলের বেতনভাতা চালু করতে প্রতিজন শিক্ষককে ৬০ হাজার টাকা করে দিতে হবে। কাজ থাকুক আর না থাকুক প্রতিদিন অফিসে আসতে হবে। কাস্টার ট্রেনিংয়ে প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা যা-ই হোক তাবলীগের (টিও তাবলীগ করেন) বয়ান শুনতে হবে… এমন অনেক অলিখিত আইনের মধ্য দিয়ে চলতে হচ্ছে রৌমারী উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে। সরকারী নিয়মের বাইরে এমন নিয়মে চলতে চলতে প্রধান শিক্ষকগণ এখন নাজেহাল।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার (টিও) হিসেবে নজরুল ইসলাম ১৮ সালের ২৩ অক্টোবর রৌমারীতে যোগদান করেন। কয়েকজন প্রধান শিক্ষক টিও’র দূর্নীতি সম্পর্কে বলেন, গত ১৮-১৯ অর্থ বছরে চরবোলয়ালমারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের ২ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন। ১৯-২০ অর্থ বছরে ১১৪টি স্কুলের ক্ষুদ্র মেরামতের (প্রতিটি স্কুলের জন্য ২ থেকে ৩ লাখ) অর্ধেক টাকা মেরে দিয়েছেন। ফলে ওই বছরে স্কুলের কোনো মেরামত কাজ হয়নি। একই অর্থ বছরে ‘ইউপেব’ এর ৮ লাখ টাকার হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতি মাসে প্রধান শিক্ষকদের ২৮০ টাকা করে ইন্টারনেট বিল দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হয় না। ১৯-২০ অর্থ বছরে ১৫টি স্কুলের খেলার সামগ্রী ও সাঁতার প্রশিক্ষণের জন্য সাড়ে ২২ লাখ টাকা গায়েব। ২০-২১ অর্থ বছরে ২৬টি স্কুলের অস্থায়ী গৃহ নির্মাণের ৫২ লাখ টাকা কোথায় কেউ জানে না। ২০ সালের শোক দিবস পালনের জন্য স্কুল প্রতি ২ হাজার করে মোট ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা এখনো দেয়া হয়নি। ২১ সালের শোক দিবস পালনের জন্য বরাদ্দ তো দেয়া হয়নি উপরোন্ত ব্যানার তৈরি বাবদ ১১৫টি স্কুল (একটি শিশু কল্যাণ) থেকে ৬৯ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে। জাতীয়করণকৃত স্কুলগুলোর প্রতিজন শিক্ষকদের নিকট থেকে নেয়া হয়েছে মোট ৮০ লাখ টাকা। এ ব্যাপারে সর্বশেষ চরবোয়ালমারী, চরলালকুড়া ও কোমরভাঙ্গী পাখীউড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২ জন শিক্ষকের নিকট থেকে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে। সাড়ে ৪ হাজার টাকার ডিজিটাল হাজিরা মেশিনের জন্য নেয়া হয়েছে ৩০ হাজার টাকা করে। যা করোনাকালে স্কুল চালুর আগেই অধিকাংশগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। এ উপজেলায় প্রাথমিকের প্রায় ৬৮০জন শিক্ষকের পরিচয়পত্র প্রদান বাবদ ১৫০ টাকা করে মোট ১ লাখ ২ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ পরিচয়পত্রে নাম, স্কুলের নাম ও পদবীতে ভুল প্রিন্ট হয়েছে। শ্রান্তি বিনোদন প্রদানে ৩ বছরের নিয়ম থাকলেও অফিস সহকারী চান মিয়াকে তা ২ বছরেই দেয়া হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম যে এতো এতো দূর্নীতি করেছেন তার নাটের গুরু হিসেবে কাজ করেছেন সহকারী শিক্ষা অফিসার নাজমুল করিম। তিনি ১৪ বছর ধরে রৌমারীতে এ পদে বহাল রয়েছেন। তার শ^শুর বাড়ি রৌমারীতেই। তার স্ত্রী জেসমিন আক্তারাও একজন সহকারী শিক্ষা অফিসার (এটিও)। তিনিও ৭ বছর ধরে একই অফিসে চাকুরী করছেন। নাজমুল করিম সরকারী গাড়ী রেখেছেন তার গ্রামের বাড়ি পাবনাতে। অথচ প্রতি মাসে তেল মবিলের বিল উত্তোলন করেন। এ বিষয়ে তার বক্তব্য চাইলে রেগে গিয়ে বলেন, ‘বুলবুল মাস্টারসহ (একজন প্রধান শিক্ষক) টিও যে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করছে তা তো আপনারা দেখবেন না। আপনারা শুধু আমাকে নিয়ে টানাটানি করছেন কেন?’

শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সঠিক নয়। এটা শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের এলাকা। এখানে এমন দূর্নীতি করার সুযোগ নেই।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সব সময় গাড়িতে এক স্কুল থেকে অন্য স্কুলে যাতায়াত করি, তাই ফোন ধরার তেমন সুযোগ হয় না।’

একই স্টেশনে ১৪ বছর ধরে কিভাবে একজন কর্মকর্তা আছেন এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা শিক্ষা অফিসার (ডিপিইও) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারী কোনো কর্মকর্তা একই স্টেশনে ৩ বছরের বেশি থাকার কথা নয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ যদি বদলি না করেন এতে আমার করার কি আছে?’

ক্যাপশন : এটিও নাজমুল করিম এবং টিও নজরুল ইসলাম

সংবাদটি শেয়ার করুন

One response to “রৌমারী শিক্ষা অফিস,এখন লুটপাটের স্বর্গরাজ্য”

  1. ❤️ Priscilla is interested in your profile! Click Here: http://inx.lv/pIaX?h=9131ce82c668049eb57c020b4f0a379a- ❤️

Leave a Reply

Your email address will not be published.


এ্রই রকম আরো সংবাদ