শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:৩৩ অপরাহ্ন

১৩ নভেম্বর উলিপুরে শোকাবহ হাতিয়া গন হত্যা দিবস

Hafizur Rahman
  • আপডেট সময় : ১২ নভেম্বর, ২০২২
  • ৩৫ বার পঠিত

 

হাফিজুর রহমান শাহীন কুড়িগ্রমঃ
১৩ নভেম্বর শোকাভিভুত হাতিয়া গন হত্যা দিবস। উত্তারাঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বেশী হত্যাযঞ্জ সংঘটিত হয়েছে এখানে।
১৯৭১ সালের এই দিনে ভোরে পাক বাহিনী উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের ৫টি গ্রামে হাতিয়া অপারেশন নামে এক পৈচাশিক বর্বতা চালিয়ে আগুন দিয়ে ভষ্মীভূত করে দিয়েছিলো পুরো এলাকা। এরপর ৬৯৭জন নিরহ মানুষকে দাগারকুঠি নামক স্থানে জড়ো করে সারিবদ্ধ ভাবে দাড় করিয়ে পশু পাখির মত গুলি চালিয়ে তাদের হত্যা করে। পাক বাহিনীর অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকান্ড থেকে কোলের শিশু পর্যন্ত রক্ষা পায়নি। অনেক শিশুকে পাক সেনারা ধরে আছাড় মেরে অথবা আগুনে নিক্ষেপ করে জঘন্যতম বর্বতার মাধ্যমে তাদেরকেও হত্যা করেছ। সেদিন এ ভাবেই হাতিয়া ইউনিয়নের বাগুয়া,অনন্তপুর,রামখানা,নয়াডারা ও দাগারকুঠি গ্রামসহ পাশাপাশি গ্রামের মানুষকে যাকে যে অবস্থায় পেয়েছে তাকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ অপারেশন শুধু হাতিয়া ইউনিয়নেই নয়, পাশ্ববর্তী বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের কলাকাটা, জলাঙ্গারকুঠি, ফকির মোহাম্মদসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে একই সাথে হামলা চালানো হয়েছে। সেদিন পাক সেনাদের গুলি খেয়ে মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গেছেন এমন ব্যক্তির মধ্যে আজো বেঁছে আছেন অনেকে। সে দিনের সেই হত্যাকান্ডের কথা জিজ্ঞাসা করলে আজো তারা হাউমাউ করে কেঁদে ফেলে। গুলি খেয়ে বেঁচে যাওয়া কামাল উদ্দিন আজ বৃদ্ধ বয়সে কালের স্বাক্ষী হয়ে দিনক্ষন অতিবাহিত করছে। হাতিয়া অপারেশনে পাক বাহিনীর গুলিতে এই ৫ গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবারের কোন না কোন স্বজন নিহত হয়েছেন। সে দিনের পাক বাহিনীর অপারেশনে এতো গুলো লোক দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন দান করলো, সেই সব শহীদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য ১৯৯৭ সালের তৎকালিন সংসদ সদস্য মোজাম্মেল হোসেন এর আন্তরিক প্রচেষ্টায় প্রথম দাগারকুঠিতে (যে স্থানে ৬৯৭ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল) স্মৃতিস্তম্ব নির্মান করা হয়। সেই স্মতিস্তম্ভ আজ ব্রহ্মপুত্র নদের গর্ভে বিলিন হয়েছে। এর পরবর্তী সময়ে হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে স্মৃতস্তম্ভ নির্মান করা হলেও সেখান থেকে দৃষ্টি নন্দনের কারনে ২০১১ সালে এই স্মৃতিস্তম্ভটি স্থানান্তরিত করে বর্তমানে বাগুয়া-অনন্তপুর বাজার সংলগ্ন পশ্চিম পার্শের মোড়ে নির্মিত হয়েছে। পাক বর্বরতার শিকার ৬৯৭জন শহীদের আত্মা হয়তো আজো আহাজারি করে ব্রহ্মপুত্র নদের উপকুলীয় এলাকার গ্রামগুলোর আকাশে বাতাসে। এই হত্যাকান্ডে স্থানীয় ভাবে যারা পাক সেনাদের সহযোগিতা করেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে যুদ্ধাপরাধী মামলা দায়ের এবং দোষীদের অনেককে গ্রেপ্তার করা হলেও কভিট-১৯ জনিত কারনে বিচারকার্য স্থগিত রয়েছে।
প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও নানা কর্মসুচীর মধ্যে দিয়ে পালিত হচ্ছে এ দিবসটি। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও ইউনিয়ন পরিষদ যৌথভাবে এ দিবসটি পালনের আয়োজন করেছে । কর্মসুচীর মধ্যে রয়েছে স্মৃতিস্তম্ভে পুস্প অর্পন, আলোচনা সভা,দোয়া মাহফিল । এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটি ও সুজন আয়োজিত হাতিয়া গণহত্যা র উপর গবেষণাপত্র উপস্হাপন করা হবে সন্ধ্যা ৬ টায় উলিপুর বণিক সমিতি মিলনায়তনে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত থাকার কথা রয়েছে মাননীয় সংসদ্ সদস্য -২৭,কুড়িগ্রাম-৩ অধ্যাপক এম,এ মতিন,বিশেষ অতিথি উলিপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন মন্টু,উপজেলা নির্বাহী অফিসার শোভন রাংসা, অফিসার ইনচার্জ শেখ আশরাফুজ্জামান, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা।গবেষণাপত্র উপস্হাপন করবেন আবু হেনা মুস্তফা l
দিবস টি উপলক্ষে ফ্রেন্ডস ফেয়ার উলিপুর দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
কর্মসূচির মধ্যে জাতীয় ও কালো পতাকা উত্তোলন, হাতিয়া স্মৃতিসৌধে পুস্প স্তবক অর্পণ, বিকাল ৪ টায় ফ্রেন্ডস ফেয়ার পাঠাগার ও আঞ্চলিক পুস্তক জাদুঘরের বই সংগ্রহ ও প্রদর্শনীর শুভ উদ্বোধন l

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.


এ্রই রকম আরো সংবাদ