শনিবার, ২৪ Jul ২০২১, ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
রৌমারীতে এরশাদ হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার দাবিতে বিক্ষোভ করোনা সংকটে নড়াইলে বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী লোকমান হোসেন ফাউন্ডেশনের অক্সিজেন সিলিন্ডার সেবা শুরু ৩০ মিনিটেই হ্যাটট্রিক ব্রাজিলের রিচার্লিসনের, হারে শুরু আর্জেন্টিনার করোনার তৃতীয় ঢেউ মোকাবেলায় ডোনেট ফর ভূরুঙ্গামারীর জরুরী প্রস্ততিমূলক সভা সরিষাবাড়ী যমুনা সার কারখানার পরিবেশ দূষণ থেকে বাঁচতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন সাংবাদিক মিলনের মহানুভবতায় বাচলো ৬টি পাখির ছানার প্রাণ। রোগীদের সেবা দিয়ে ঈদ আনন্দ উপভোগ করছেন মনিরামপুর স্বেচ্ছাসেবীরা হরিপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে আপন দুই বোনের মৃত্যু রৌমারীতে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুনি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ৫শ দুস্থ্য পরিবার পেল ঈদ উপহার

৮ জুন- বিশ্ব সমুদ্র দিবস।

Avatar
Liton Sorkar
  • আপডেট সময় : ৮ জুন, ২০২১
  • ৪০ বার পঠিত

৮ জুন- বিশ্ব সমুদ্র দিবস।

নিজেস্ব প্রতিনিধিঃসালমান আহমেদ।
সমুদ্র… কি বিশাল এক জলরাশি! এর নামটি উচ্চারণ করলেই চোখে ভাসে নীল রঙের মায়ামাখা এক প্রকান্ড পানির উৎসের ছবি। যেখানে ক্রমাগত ঢেউ ছুটে আসছে। বড় বড় ঢেউ ছুটে এসে ছুঁয়ে যাচ্ছে স্থলভূমির কোল। সেই সব ঢেউয়ের মাথায় নাচছে সাদা ফেনার উচ্ছ্বাস। বালুকাবেলার পাড়ে দীগন্ত জোড়া সেই সব সমুদ্র যেন অনাদীকাল থেকে এমন স্রোত বিলিয়ে চলছে। যারা একটু ভ্রমণমুখী, তাদের চোখে ভেসে উঠবে কক্সবাজার, পতেঙ্গা, কুয়াকাটা কিংবা টেকনাফের সমুদ্র সৈকতগুলির ছবি। এখন অবশ্য সমুদ্রের উপরিভাগ আর তলদেশ আমাদের কাছে বেশ পরিচিত। টিভির পর্দায় চোখ রাখলেই দেখা যাবে নানা চ্যানেলের আয়োজন। ন্যাশনাল জিওগ্রাফি, ডিসকভারি কিংবা এনিমেল প্লানেট। এসব চ্যানেলে সমুদ্রকে ঘিরে দুর্দান্ত সব অভিযান আর বিচিত্র সব প্রাণীদের নিয়ে অসংখ্য প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয় নিয়মিত। কিন্তু আমরা খালি চোখে যেটুকু দেখি, সমুদ্রের অবদান আর আবেদন তার চেয়েও অনেক বেশি। সাগর- মহাসাগরকে বলা হয় পৃথিবীর ফুসফুস। আমাদের অক্সিজেনের সবচেয়ে বড় জোগানদাতা হলো এসব সাগর আর মহাসাগর। সমুদ্রের এই সব অবদান, আবেদন, প্রয়োজনীয়তা আর উপকারীতাকে স্বতন্ত্রভাবে বিশ্বের সবার সামনে তুলে ধরতে প্রতি বছর ৮ জুন পালন করা হয় বিশ্ব সমুদ্র দিবস। বিশেষ এই দিবসটি পালনের প্রস্তাব প্রথমবার নিয়ে আসে কানাডা। ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোয় অনুষ্ঠিত হয় ধরিত্রী সন্মেলন। সেই সন্মেলনেই কানাডা সমুদ্র নিয়ে একটি বিশেষ দিবস পালনের প্রস্তাব দেয়। সমুদ্রের বিশ্বব্যাপী ভূমিকা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তারপর থেকে নানা রকম চিন্তা-ভাবনা চলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। শেষ পর্যন্ত ২০০৮ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্ব সমুদ্র দিবস পালনের প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। অধিবেশনে জাতিসংঘ এই বিশেষ দিবসটি পালন করার জন্য সব সদস্য রাষ্ট্রকে আহ্বান জানায়। এর পরের বছর অর্থাৎ ২০০৯ সাল থেকে প্রতি বছর ৮ জুন আন্তর্জাতিকভাবে পালন করা হয়ে আসছে বিশ্ব সমুদ্র দিবস। দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো, সাগর-মহাসাগর সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়িয়ে তোলা। সেই সঙ্গে সমুদ্র ব্যবহার ও পরিবেশ ভাল রাখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন আইনের বিন্যাস, বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের দরজা খুলে দেয় এই বিশেষ দিবসটি। বিশ্বব্যাপী সমাদৃত জলরাশি হিসেবে সমুদ্রকে সন্মান জানানোর পরিবেশ সৃষ্টি করে দেয় বিশ্ব সমুদ্র দিবস। সমুদ্র আমাদের নানা ভাবে উপকার করে চলে। এই সাগর-মহাসাগরগুলো পৃথিবীর শতকরা ৩০ ভাগ পর্যন্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড শুষে নিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া আমাদের বেশিরভাগ খাদ্য ও অষুধের উৎসও হলো সাগর ও মহাসাগরগুলো। অসংখ্য কারণে মানুষ সমুদ্রের উপর নির্ভর করে। তিনি বিলিয়নের বেশি মানুষ সরাসরি সামুদ্রিক জীববৈচিত্রের উপর নির্ভর করে বেঁচে আছে। সমুদ্র থেকে মানুষ প্রতি বছর যে পরিমাণ সম্পদ আহরণ করে এবং এর উপর ভিত্তি করে পণ্য উৎপাদন করে তার অর্থনৈতিক মূল্য বছরে দাঁড়ায় প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। এতো উপকার করার পরেও আমরা সমুদ্রকে রেহাই দিচ্ছি না। দিনের পর দিন নানা ভাবে, নানা চেহারা তার ক্ষতি করেই চলছি। পরিসংখ্যান আর বাস্তবতা বলছে, মোট সাগর আর মহাসাগরের ৪০ শতাংশের বেশি ক্ষতির শিকার হয়ে গেছে। মানবসৃষ্ট দূষণ আর আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়ে চলছে এই মহান জলরাশিগুলি। বিজ্ঞানীরা জানান, বিশ্বের প্রায় ১০ শতাংশ প্লাস্টিকজাত আবর্জনায় ভরে গেছে এই সব সমুদ্রের কোল। জাতিসংঘের পরিবেশ সমীক্ষার এক তথ্যমতে, সমুদ্রের প্রতি বর্গমাইলে ৫০ হাজার পর্যন্ত প্লাস্টিকের বোতল ভাসতে দেখা যায়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে তেল, কেমিক্যালসহ আরো নানা রকম বর্জ্যরে নমুনা। অনেকে ক্ষোভের সঙ্গে বলে বসেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে সমুদ্র। সারা বিশ্বে আজ সমুদ্র ও উপকূলবর্তী উদ্ভিদ ও প্রাণীজগত বিপর্যয়ের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। সাগর ও মহাসাগর নিয়ে জাতসংঘের পরিবেশ বিষয়ক কার্যালয় একটি বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করেছে যার নাম ‘গ্রিন ইকোনমি ইন এ ব্লু ওয়ার্ল্ড’- এই প্রতিবেদনে বিশ্বের সমুদ্রগুলির এক করুণ অবস্থা ফুটে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এ্রই রকম আরো সংবাদ